দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে কোচিং করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিক ওই শিক্ষকের হামলা ও বাধার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে পিরোজপুর শহরের কৃষ্ণচূড়া মোড় এলাকায় শহীদ ওমর ফারুক কিন্ডারগার্টেনের পেছনের একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকদের অভিযোগ, পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) আরাফাতুর রহমান ওই কক্ষে অষ্টম শ্রেণির প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থীকে কোচিং করাচ্ছিলেন। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোচিং কার্যক্রম বন্ধ থাকার কথা থাকলেও ওই শিক্ষক নিয়মিত কোচিং করাচ্ছেন—এমন তথ্য পেয়ে সাংবাদিকরা সেখানে যান।
সাংবাদিকরা কোচিং কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।
হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন স্টার নিউজ ও দৈনিক নয়া দিগন্তের পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, চ্যানেল ওয়ানের পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি শাফিউল মিল্লাত এবং চ্যানেল এস-এর পিরোজপুর প্রতিনিধি জিয়াউল হক।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, কোচিং কার্যক্রমের ভিডিও ধারণের সময় তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে কোচিং পরিচালনার অভিযোগ তদন্তের পাশাপাশি সংবাদ সংগ্রহে বাধা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবর তালুকদার বলেন, ১০-১৫ দিন আগেই স্কুলের সব শিক্ষককে কোচিং না করানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁর জানামতে, স্কুলের সব শিক্ষকই এই নির্দেশনা মেনে চলছেন। তবে কোচিং বিষয়ে সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে একজন শিক্ষকের সঙ্গে একটি ঘটনার কথা তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক আরাফাতুর রহমানের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, কোচিং-সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিক একজন শিক্ষকের হামলার শিকার হয়েছেন—এমন একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমএস/